আমার কথাঃ

আজ ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ সাল। নিজের বায়োগ্রাফি লিখতে বসেছি। কিন্তু কি লিখব তা নিয়ে যথেষ্ট দ্বিধাগ্রস্থ আছি । কারন নিজের সম্পর্কে লেখার নেই কিছুই। জীবনে অর্জনের খাতাটা এখনও পর্যন্ত ফাঁকাই বলতে পারেন। শুনেছি ছোট বেলা থেকেই খুব দুরন্ত ছিলাম আমি। তার যথেষ্ট প্রমাণও আছে। কি? আমার শরীর। সারা শরীরটা যেন সেফটি পিন দিয়ে জোড়া লাগানো। সারা দেহে কাঁটা ছেড়ার কোন অন্ত নেই। হাহাহা। পড়াশোনার দিকে আমি ছোট বেলা থেকেই মহা মনোযোগ। পড়ার টেবিলে বসতেই চাইতাম না। মা কে যে কত কষ্ট করিয়েছি এই পড়াশোনার জন্য তার কোন ইওত্তা নেই। স্কুলে আমি নাকি মোটামুটি ভালো ছাত্র। রেজাল্ট মোটামুটি ভাল। কম পড়াশোনা করে মোটামুটি ভালো রেজাল্ট করায় গায়ে বাবা মা বসিয়ে দিল মেধাবী এর তামাকা। বাবা মা’এর আশা বাড়তে লাগল, আর আমার রেজাল্ট আরও খারাপ হতে লাগল। চলে এলাম নবম শ্রেণীতে। বিজ্ঞান এর প্রতি ভালোবাসা থেকেই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। পড়াশোনা ২ বছর কিছুই করি নি। টেস্ট পরীক্ষা দিলাম রেজাল্ট হল ৪.৪৪। এর পর কি যেন হল। পড়া শুরু করলাম। নোট করে ফেললাম ১-১.৫ মাস এর মধ্যে। বেশ কষ্ট করতে লাগলাম। তবে এ+ পাব এই আশা নিয়ে পড়াশোনা করি নি। পরীক্ষা দিলাম। আমাকে অবাক করে দিয়ে জিপিএ ৫.০০ পেলাম। বাসার সবাই খুব খুশী। আমি নাকি খুবই মেধাবী। অল্প পড়ে ভালো করি। আর বেশী পরলে না জানি কি কি করে ফেলবে ছেলে !!! হাহাহা। এর মধ্যে আমার জীবনে ইন্টারনেট একটি বিরাট জায়গা নিয়ে নিল। ইন্টারনেট এর দিকে আমার আগ্রহ আকাশকেও ছাড়িয়ে যেতে চাইল। বাঁধ সাধল আমার নিজের কম্পিউটার না থাকা। এর মধ্যে আমার ভাই, দাদা প্রিয়ব্রত রায় মেডিকেলে ভর্তি হল। আর আমি শুরু করলাম আমার সেকেন্ড ইনিংস, ইন্টারমিডিয়েট। ক্লাস শুরুর দিন রসায়ন স্যার এক বিরাট ছক কষে দেখালেন ইন্টারমিডিয়েটে এ+ পাওয়া কত্ত কঠিন। এক মিনিটও নষ্ট করার মত সময় নেই। আর তাই আমি মহা আনন্দে লেগে গেলাম বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর ঘোরাঘুরিতে। এভাবে কেটে গেল প্রায় ১.৫ বছর। প্রিটেস্ট পরীক্ষা দিলাম। ফেল করলাম রসায়নে। মাথায় বাজ পড়ল। লজ্জা পেলাম। পড়াশোনা শুরু করলাম। টেস্ট পরীক্ষা দিলাম। রেজাল্ট ৪.২০ আসলো। এবার আগের চেয়ে আরও বেশী কষ্ট করতে লাগলাম। নোট করে ফেলতে লাগলাম কঠিন সব প্রশ্নগুলো। পরীক্ষা এলো। রেজাল্ট বের হল ৪.৯৯। সবার মন খুব খারাপ। খাতা পুনঃনিরিক্ষন এর আবেদন করলাম। রেজাল্টে ভুল ধরা পড়ল। আমার রেজাল্ট ৪.৯৯ থেকে ৫.০০ তে পরিবর্তিত হল। এর পর বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু হচ্ছে। এখন আছি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এই লম্বা সময়টাতে অনেক বন্ধু হয়েছে আবার অনেককে হারাতে হয়েছে। কারো কারো কাছ থেকে পেয়েছি অসম্ভব রকম অনুপ্রেরনা। আবার, অনেক বন্ধুকে চিনেছি যারা সুবিধাবাদি। দুঃসময়ে কাছে পাইনি তাদের। দূরে দাড়িয়ে মজা দেখেছে শুধু। এমনকি কথাও বলেনি। নাম বললে অনেকের নাম ই এসে যায়। তার কার নাম ই উল্লেখ করব না। কিন্তু কিছু কিছু বন্ধু ছিল যারা টাকাকে বেশী ভালো বাসত। নিজেরটা তারা খুবই ভালো বুঝত। তাদের কেউ কেউ এখনও আমার সাথে আছে। আমি তাদের সাথে থাকি কিন্তু সময় মত ঠিকই সরে আসব। কারন আমি জানি সুযোগ পেলে তারা আমাকে “বিদায়” বলতে কুণ্ঠ বোধ করবে না।

আর এখন? এখন আছি খুলনা ইউনিভার্সিটিতে২০১২ সালে ভর্তি হলাম। এখন ভালোই আছি। দেখা যাক এখন জীবনটা কোন দিকে গড়ায় !!

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়